News
বাসে ওঠা-নামার সময় শরীরের বিভিন্ন অংশে ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃতভাবে লাগছে চালক সহকারীর হাত। কিছু পুরুষ যাত্রী ইচ্ছা করে নারী যাত্রীদের গায়ের ওপরে পড়ে যান কিংবা অপ্রয়োজনে গায়ে হাত দেন। বাসের পেছনে ফাঁকা থাকলেও সামনের দিকে নারী আসনগুলোর পাশে গা-ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং চালক সহকারীরা পেছনে যেতে বললে তাদের বাজে ভাষায় গালাগালও করেন অনেকে। তবে ছোট পরিবহনগুলোতে নারী ভোগান্তির চিত্রটা একটু কম। তারা নারীদের সুবিধার কথা চিন্তা করেই বের হবার দরজার সঙ্গে তাদের বসার জায়গা করে দেয়। এতে ভেতরের দিকে বসা যাত্রীদের আগে নামতে হলে নারী যাত্রীদের ওপর দিয়ে নামা ছাড়া উপায় থাকে না।
বাসে নারীদের জন্য সিটসংখ্যা বাড়ছে না। নারী যাত্রীর জন্য বিআরটিসি কিছুদিন আগেও আটটি বাস চালু রেখেছিল; কিন্তু পর্যাপ্ত নারীযাত্রী নেই, তাই লস দিতে হচ্ছে- এমন অজুহাতে বাসগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদিও ওই আটটি বাসও নারীদের জন্য রাজধানীতে অপর্যাপ্ত ছিল। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, রাজধানীর ৭৩টি মোড়ে প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় ভিড় থাকে। এ ভিড়ের মধ্যে নারী যাত্রীদের পোহাতে হয় এসব সমস্যা। অপরাধী অপরিচিত হওয়ায়ও আমাদের সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি না পাওয়ায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীদের এসব ভোগান্তি মুখ বুজে সহ্য করা ছাড়া উপায় থাকে না।শুধু পুরুষ যাত্রী নয় বাসের চালক ও হেল্পারদের আচরণও নারীদের জন্য যথেষ্ট বিব্রতকর। এটাকে যৌন হয়রানি ছাড়া অন্য কোনোভাবেই অভিযুক্ত করা যায় না। প্রতিনিয়ত নারীযাত্রীরা এভাবে হয়রানির শিকার হলেও নীরব প্রশাসন। নেই বিকল্প কোনো উদ্যোগ। পুরুষরা যেমন বাইকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, তাদের পাশাপাশি নারীরাও নিচ্ছেন স্কুটি। এতে করে কর্মক্ষেত্রে যেতে খুব হয়রানির শিকার হতে হয় না।
কয়েক মাস আগে বাংলাদেশ উইমেন রাইডারস ক্লাবের আমন্ত্রনে বিদেশ থেকে আগত আন্তজ্রাতিক দুইজন নারী বাইকার Trui Hussein Hanoulle (Belgium) Dimple Mithilesh Chowdhury (India) এই বিষয়গুলো তুলে ধরে MO* *MONDIAAL NIEUWS ম্যাগাজিনে একটি প্রতিবেদন করেন। তারা বাংলাদেশ উইমেন রাইডারস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট ইসরাত খান মজলিশ ,ভাইস প্রেসিডেন্ট রোজেন মাহমুদ সহ আরও অনেক নারী বাইকারদের সাক্ষাৎকার নেন। অ্যাপের মাধ্যমে রাইড শেয়ারিং সার্ভিসে যে সকল নারীরা কর্মরত আছেন তাদের সাক্ষাৎকার নেন সুবিধা ও অসুবিধা তুলে ধরেন।